Monday, March 21, 2016

কাব্যময়......💟💟

দ্বিতীয় খন্ড:😝
মেয়েটি এতক্ষনে চটপটির অর্ডার করেছে ।দোকানী মেয়েটির দিকে তাকিয়ে বললো আপু 

ঝাল দিমু।

  

মেয়েটি : কি ভেবেই যেন বললো বেশী।

বলার ধরনে বুঝা গেল সে অপেক্ষার মানুষটির উপর

রাগ থেকেই ঝাল বৃদ্ধি করে রাগ প্রতিকার করার চেষ্টা করছে।এতক্ষনে চটপটির প্লেট মেয়েটির হাতে পৌঁছে গেছে।এবার আমার পালা। 
ইতিমধ্যে দুবার আমাদের চার চোখ এক হয়েছে।শেষবার দীর্ঘতম।আর তখনি তার মুখের অবস্থা টমেটুময় দেখতে 

পাইলাম বুঝলাম ঝাল তার কার্যক্রম যথারিতি আরম্ভ করেছে এবং শতভাগ সফল ।
রিং বাজলো মেয়েটির ফোনে চুপচাপ শুনলো আর 

নিরবে কলটা কেটে দিলো ।আমার হাতে প্লেট নেই তাই মেয়েটির 

কান্ডগুলোই উপভোগ করছিলাম।আমার প্লেটও এসে গেল।দু চামচ খেয়েছি।নিন্ম চিৎকারে কে যেন বলছে পানি পানি।
স্বাদ উপভোগ বাদ দিয়ে তাকিয়ে দেখতে পেলাম মেয়েটি পানি পানি করছে।
😝দোকানির জবাব ছিলো আপু একটু অপেক্ষা করেন 

ফিল্টার আসতেছে।এই দুরবস্থা দেখে খাওয়ার ভাবনা উধাও আমার।ব্যাগে হাতদিয়ে মামের বোতলটা নিয়া চেয়ারে প্লেটটা রেখে উঠে গিয়া মেয়েটির ঠিক সামনে দাড়িয়ে 

আনমনেই তার প্লেটটি একহাতে টেনে নিয়া তার হাতে মামেরঠান্ডা বোতলটি দিলাম।খাচ্ছে আর আমার দিকে পরম যত্নে মায়াভরা নয়নে আবেগ নিয়ে চেয়ে চেয়ে ফিটার খাওয়া শিশুর মতন 

তাকাচ্ছে।আমি যেন নিজেকে মেয়েটির ভারপ্রাপ্ত বয়ফ্রেন্ড মনে 

করলাম।আমার সেকি কেয়ার।নিজের ভাত নাই পরের ধনে পোদ্দারী।আমি দৌড় দিলাম খুব জোড়ে দোকানী ও মেয়েটি তাকিয়ে রইলো।আমার অবাক করা কান্ড দেখে।
দুমিনিটের মধ্যেই আবার ঠিক মেয়েটির সামনে এসে 

দাড়িয়ে হাত বাড়িয়ে সদ্য কেনা পকেট টিস্যুর প্যাকেটটি এগিয়ে দিলাম।তাকিয়ে আছে মেয়েটি আমার দিকে।আর হয়ত আমার জায়গায় তার মানুষটি থাকলে সে আরো কতনা কমফ্রোর্ট ফিল করতো।আবার আমিও ভাবছি বয়ফ্রেন্ড থাকলে কি সে বেশী 

ঝাল খেতো।খেতনা।এটা আমার উপরি পাওনা।ঝালের ঝড় থেমে গেছে মেয়েটিও শান্ত এখন।মেয়েটিকে একটু অপ্রস্তুত মনে হচ্ছে।তাই নিজেই বলে ফেললাম।এখন কি অবস্থা আপনার।ঝাল কি কমেছে।আরও পানি লাগবে।নরম করেই উত্তর এলো আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।এর ফাঁকে কয়েকজন চটপটি ফুচকা খেয়ে 

চলে গেছে।যেন আমরাই ফুলটাইম কাস্টমার।মেয়েটি দাড়িয়ে গেলো অতপঃর আমার পাশের 

চেয়ারে এসে বসলো।এতক্ষন চটপটির গন্ধ নাকে লেগে ছিলো বলে মিষ্ট সুরভীত গন্ধটা পাইনি।আর বুঝলাম পারফিউমটা মেয়েটির নিজের পছন্দেএবং নিজের টাকায় কেনা।
আচ্ছা দেখুননা আমার জন্য আপনার খাওয়াই হলোনা।ও কিছুনা ঠিক আছে।মেয়েটির জড়তা মনে হয় কেটে গেছে।দোকানিকে ডেকে বললো দুই প্লেট চটপটি দিন।আমি কিছুই বললামনা।হয়ত চটপটির নেশায় হয়তবা পারফিউমের জন্য 

অথবা এই সময় কিছু বলা ঠিকনা।দোকানি একটু হাসি মুখেই বললো আপু ঝাল কেমন দিমু।কথা শুনেই আমি এবং মেয়েটি উচ্চ হাসিতে 

হাসতে লাগলাম।হাসতে হাসতেই মেয়েটি বললো কম আমি ঝাল খাইনা।আমি বললাম এটা আমি জানতাম।মেয়েটি কি করে জানলেন।আপনাকে দেখেই মনে হলো।ও তাই বুজি।হুম।তো আরকি মনে হলো।আর মনে হলো আপনি কারো অপেক্ষায় ছিলেন 

এবং তার উপর রাগ করেই ঝাল বেশী খেলেন।মেয়েটি- অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকলো আমার দিকে কিছুই বললোনা।তার মায়াবী চাহনির দিকে তাকিয়ে 

হারিয়ে যাচ্ছিলাম।একবার ভাবছি চোখ ফিরিয়ে নেই পরক্ষনে পারছিনা।কেনো এত ভালোলাগা আসে কোথ্কে আসে 

বুঝিনাতো।বুঝতেও চাইলামনা শুধু চেয়ে রইলাম।এত কাছে এতসুন্দর হাসি দেখতে পাওয়া কি 

কম ভাগ্যের।
দোকানি দুইহাতে দুই প্লেট নিয়ে সামনে এসে মামা 

থেকে এখন ভাইয়া বলে ডাকলো । সব দৃশ্যপট কেমন জানি পাল্টে যাচ্ছে।খেতে আরম্ভ করলাম।স্বাদ পাচ্ছিনা।


মেয়েটি খেতে খেতে জিগ্সাসা করলো আপনার নামটা বলবেন কি।কি করেন কোথায় থাকেন।ইম্তু আমার ডাকনাম।মোঃপুরে থাকি।পড়াশুনা শেষ করে একটা জব করছি।আমি জানতে চাইনি তবু নিজ থেকেই বললো।ইম্মি আমার ডাকনাম।ধানমন্ডি পনেরতে থাকি।বিবিএ পড়ছি ।দুই ভাই একবোন আমি বড়।
খাওয়া শেষ করে প্লেটটা দিতে গিয়ে প্লেটের নিচে থাকা কাগজটা ভিজে হাতেই আটকে আছে।ফেলার সময় চোখ পরলো বনলতাসেন কবিতার পাতা এটা।আনমনে আবৃততি করলাম দুইলাইন ''চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার দিশা''।বাহ্ ধারুনতো আবৃত্তি করেন আপনি।এইযে দেখুননা কবিতা লেখকদের অবস্থা।যারা মনের খোরাক প্রাণের খোরাকের জন্য লিখে

তাদের জায়গা কোথায়।হুম এটা ভালই বলেছেন।তবে মনে হচ্ছে আপনিওলিখালিখি করেন।তাইনা।বলতে পারেন একপ্রকার মনের আনন্দের  জন্যই মাঝে মধ্যে লিখি।


তৃতীয় খন্ড আসছে.......


Popular Posts

Blog Archive